ম্যানটিস শ্রিম্প: যার ঘুষি ভাঙে কাঁচ, আর চোখ হার মানায় রোবটকেও

0
394

 

সমুদ্রের নীচে, যেখানে আলো ম্লান, শব্দ নিঃশব্দ আর বেঁচে থাকার জন্য যা দরকার তা হলো চতুরতা! সেখানেই বাস করে একটা রহস্যময় প্রাণী। খুব ছোট দেখতে, একটা চিংড়ির মতো। নাম Mantis Shrimp। কিন্তু এই নামের মধ্যে লুকিয়ে আছে যে শক্তি, যে রহস্য, তা শুনলে আপনার চোখ কপালে উঠবে।

 

এর ঘুষি এতটাই জোরালো, যে তা দিয়ে অ্যাকুরিয়ামের কাঁচ ফেটে যায়। আর চোখ? আপনি, আমি, ক্যামেরা, এমনকি কিছু রোবট সেন্সর কেউই এদের চোখের সঙ্গে টেক্কা দিতে পারে না।

এরা ঘুষি মারে ৮০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে! Mantis Shrimp-এর সামনে থাকে দুইটা শক্তিশালী ক্লাব যেন পাথরের হাতুড়ি! শিকার দেখলেই সে এত জোরে আঘাত করে, যে পানির নিচে সেই ঘুষির গতিতে একপ্রকার ছোট্ট শকওয়েভ তৈরি হয়। এটাই বলা হয় Cavitation Bubble। এই বুদবুদের বিস্ফোরণ এত তীব্র যে, যদি ঘুষি থেকে কেউ বেঁচেও যায়, এই শকওয়েভেই সে শেষ!

এরা ঘুষি মারার সময় মাত্র ৩ মিলিসেকেন্ডে (এক চোখের পলকের চেয়েও কম) শক্তি ছুড়ে মারে, যার গতি বুলেটের সমান। পানির নিচে এত জোরে কেউ কিভাবে আঘাত করতে পারে এটাই বিজ্ঞানীদের এক বিশাল বিস্ময়!

চোখে যে জিনিস এরা দেখে, আমরা তা কল্পনাও করতে পারি না! আপনার চোখে আছে মাত্র ৩ ধরনের রঙ শনাক্তকারী কোষ লাল, সবুজ আর নীল। কিন্তু ম্যানটিস শ্রিম্পের চোখে আছে ১৬টি!

 

এরা শুধু আলাদা রঙ না, অতিবেগুনি রশ্মি (UV) এমনকি পোলারাইজড আলোও দেখতে পারে যা মানুষের পক্ষে একেবারেই অদৃশ্য!

যার মানে, এই প্রাণীটা আমাদের চেনা দুনিয়ার বাইরেও কিছু দেখে! যেন সে সমুদ্রের নিচে এক বিকল্প বাস্তবতা দেখতে পায়। এটাই এমন একটা স্তর, যা বিজ্ঞানের সবচেয়ে উন্নত ক্যামেরাও পুরোপুরি অনুকরণ করতে পারেনি।

 

এদের প্রতিটি চোখ ঘোরে আলাদাভাবে এবং প্রতিটি চোখেই এমন গঠন আছে যা দিয়ে তারা depth, movement, এমনকি পোলারিটি আলাদাভাবে চিনতে পারে। প্রতিটা চোখে যেন একটা করে ছোট কম্পিউটার বসানো!

সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো, এরা চোখেই অনেক কিছু প্রক্রিয়া করে ফেলে সেটা মস্তিষ্কে না পাঠিয়েই! অর্থাৎ চোখ-ই এদের অর্ধেক বুদ্ধির জায়গা!

 

মানুষ ভাবে সে-ই সবকিছু জানে, কিন্তু প্রকৃতি চুপচাপ এমন সব অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছে একটা ছোট্ট প্রাণীর ভেতরে, যা পুরো বিজ্ঞানের চেহারাই বদলে দিতে পারে। একটা চিংড়ির মতো ছোট্ট প্রাণী, কিন্তু তার চোখ আর ঘুষি নিয়ে আজ গবেষণা চলছে পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ল্যাবগুলোতে।

সে যেন সমুদ্রের নিচের এক নীরব সুপারহিরো যে, না আওয়াজ করে আর না আলো চায়! শুধু নিজের নিয়মে বেঁচে থাকে, আর ছায়ার মতো শক্তি বহন করে চলে!

Suche
Kategorien
Mehr lesen
Literature
পড়ালেখায় দ্রুত উন্নতি করার ১০টি কার্যকরী টিপস!
১। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠুন। ফলে আপনি অন্যদের থেকে বেশি সময় পাবেন পড়াশোনার জন্য। ২। প্রতিদিন...
Von Phoenix (Striker) 2025-07-08 16:15:40 1 843
Andere
গাড়ি উৎপাদনের অঞ্চলেকে তিনটি সমান ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যার প্রত্যেকটি বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত গাড়ির প্রায় ৩৩.৩% প্রতিনিধিত্ব করে।
এই মানচিত্রটি বৈশ্বিক গাড়ি উৎপাদনের একটি আকর্ষণীয় ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন করে: এটি তিনটি সমান ভাগে...
Von Yeara Meherish 2025-08-02 10:15:44 0 337
Health
Doctors Have Created a World Fast Bionic Eye That Cane Restore Vision
Scientists are on the brink of restoring sight. A new bionic eye implant restores vision to...
Von Sharif Uddin 2025-08-07 19:50:56 0 591
Tech
How a gps tag work?
🔑 How It Works: The tag has a built-in GPS chip to find its own real-time location. It uses...
Von Steve Harrington 2025-07-06 16:08:48 0 1KB
Andere
THE DISCOVEREY OF DARK OXYGEN
A game-changing discovery has just emerged from the depths of the Pacific Ocean. Scientists have...
Von Mirshad Sharif 2025-08-06 07:33:42 0 563
BlackBird Ai
https://bbai.shop